চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা। ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধে মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ত্রিশাল উপজেলার একটি ফিলিং স্টেশন এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
পুলিশ ও বিক্ষোভকারী সূত্রে জানা গেছে, জেলার ত্রিশাল উপজেলা থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ গেট পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। এসব অটোরিকশাকে দৈনিক ৩০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। মো. দুকুল ও তার দুই সহযোগী মো. রফিক ও মো. রতন এই চাঁদা তুলতেন। কিন্তু রোববার সকালে ত্রিশাল থেকে মো. ফয়সাল নামে একজন সিএনজি নিয়ে মেডিকেল গেট এলাকায় আসলে ৭০ টাকা দাবি করা হয়।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ৩০ টাকা নিলেও আজ ৭০ টাকা দাবির প্রতিবাদ করেন সিএনজি চালক ফয়সাল। ওই অবস্থায় তাকে সেখান থেকে যাত্রী তুলতে ও দাঁড়াতে না দেওয়ায় ত্রিশালে চলে যান। পরে অন্য সিএনজি চালকদের জানালে সকাল ১০টার দিকে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা।
এ সময় অতিরিক্ত চাঁদা বন্ধের দাবিতে স্লোগান দেন তারা।
এ ঘটনায় মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরে ত্রিশাল থানা-পুলিশের সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাভিক হয়।
বিক্ষোভকারী চালকরা জানান, অতিরিক্ত চাঁদাবাজির কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন পয়েন্টে এভাবে টাকা দিয়ে সড়কে যানবাহন চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। তাই সব ধরনের চাঁদা বন্ধের দাবি জানান তারা।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন বলেন, মেডিকেল কলেজ গেট এলাকায় ৩০ টাকার স্থলে আজ ৭০ টাকা দাবি করলে এ ঘটনার উদ্ভব হয়। যারা চাঁদা তুলতো তাদের আমরা শনাক্ত করতে পারিনি এবং রাজনৈতিক কোনো পরিচয় আছে কি-না তাও জানি না। শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে, প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
খুলনা গেজেট/এমএনএস

